ছবি: দি টাইমস অফ ইন্ডিয়া থেকে সংগৃহীত।
ভারতে IIIT-ডেলহিতে এআই-এর ব্যবহারে বিপ্লব: পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের অনুমতি, কিন্তু প্রম্পট জমা দিতে হবেনয়াদিল্লি, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ (সম্পাদকীয় ডেস্ক): শিক্ষা জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
ভারতের ইন্দ্রপ্রস্থ ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি (IIIT-ডেলহি) এখন থেকে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা এবং অ্যাসাইনমেন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুলস যেমন চ্যাটজিপিটি, জেমিনির মতো টুলস ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এটি শুধুমাত্র একটি নিয়ম পরিবর্তন নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থায় এআই-এর দায়িত্বশীল একীভূতকরণের একটি বড় পদক্ষেপ। তবে, ছাত্ররা তাদের উত্তরের সাথে এআই-কে দেওয়া প্রম্পটগুলো জমা দিতে বাধ্য থাকবেন, যাতে মূল্যায়নের ফোকাস মুখস্থ জ্ঞানের পরিবর্তে চিন্তাভাবনা এবং প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং-এর উপর পড়ে।এই নতুন নীতিটি গত মাসে (১ ডিসেম্বর) ঘোষণা করা হয়েছে এবং বর্তমানে নির্বাচিত বিভাগগুলোতে পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে চলছে। IIIT-ডেলহির ডিরেক্টর প্রফেসর রঞ্জন বোস বলেছেন, “ছাত্ররা ইতিমধ্যে এআই টুলস ব্যবহার করছে। প্রশ্ন এখন ব্যান করা কি না করা নয়, বরং কীভাবে তাদেরকে দায়িত্বশীলভাবে এবং সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করতে শেখানো যায়।” তিনি আরও যোগ করেছেন, “মূলত্ব পড়বে প্রম্পট কীভাবে ফ্রেম করা হয়েছে এবং তার থেকে কীভাবে অর্থপূর্ণ আউটপুট বের করা হয়েছে। এটি শিক্ষাকে আরও বাস্তবসম্মত করবে।” নতুন মডেলের বিবরণ: কীভাবে কাজ করবে?
(সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ইডুকেশন টাইমস, নিউজ১৮ এবং অন্যান্য)
- প্রম্পট জমা দান: ছাত্ররা যেকোনো এআই টুল ব্যবহার করতে পারবেন, কিন্তু তাদের উত্তরের সাথে সেই প্রম্পটগুলো (যেমন, চ্যাটজিপিটি-তে দেওয়া প্রশ্ন) জমা দিতে হবে। এটি নিশ্চিত করবে যে ছাত্ররা শুধু কপি-পেস্ট করছে না, বরং তাদের চিন্তাধারা প্রকাশ করছে।
- পরীক্ষার ফরম্যাট: কিছু পরীক্ষা টেক-হোম অ্যাসেসমেন্ট হিসেবে হবে, অন্যগুলো ক্যাম্পাসে সুপারভাইজড পরীক্ষায় ল্যাপটপে এআই অ্যাক্সেস করে। ইনস্টিটিউট ইতিমধ্যে কিছু কোর্সে ওপেন-বুক পরীক্ষা করে আসছে, এবং এটি তারই এক্সটেনশন।
- থিসিস এবং রিসার্চে: এআই ব্যবহারের জন্য ম্যান্ডেটরি ডিসক্লোজার লাগবে, যাতে ছাত্ররা ফাইনাল আউটপুটের দায়িত্ব নেয় এবং কোনো ত্রুটির জন্য অ্যাকাউন্টেবল হয়।
(সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ইডুকেশন টাইমস, নিউজ১৮ এবং অন্যান্য)